পাতা

চেয়ারম্যানের বাণী

 

বিদ্যুৎ সভ্যতার চাবিকাঠি এবং আর্থ সামাজিক উন্নয়নের পথিকৃত৷ এ বাস্তবতাকে উপলদ্ধি করে দেশের গ্রামীণ জনগণের জীবনমান ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৩১শে অক্টোবর ১৯৭৭ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ বলে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়৷ সমবায়ের সার্বজনীন নীতিমালা এবং ‘লাভ নয় লোকসান নয়’ এ দর্শণের উপর ভিত্তি করে এবং গ্রাহকগণকে সমিতির প্রকৃত মালিকানার স্বীকৃতি দিয়ে এ যাবত দেশের ৪৫৩ টি উপজেলার সমন্বয়ে ৭৭ টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠিত হয়েছে৷

পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের আওতাভুক্ত এলাকায় ডিসেম্বর/২০১৩ ইং পর্যন্ত নির্মিত বিদ্যুতায়িত লাইন ২,৪৬,৩৭২ কিঃমিঃ ; যা নভেম্বর, ২০১৪ খ্রিঃ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে দাড়িয়েছে ২,৫৬,০৬৫ কিঃমিঃ অর্থাত্‍ বর্তমান সরকারের আমলে ৯,৬৯৩ কিঃমিঃ নতুন লাইন নির্মাণ করে ৭.৬৭ লক্ষ বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে৷ নভেম্বর ২০১৪ খ্রিঃ মাস পর্যন্ত সর্বমোট প্রায় ১ কোটি ০৬ লক্ষ বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে৷ একই সময়ে নতুন ৬৭ টি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণ করে উপকেন্দ্রের সংখ্যা ৬৩২ টিতে উন্নীতকরনসহ উপকেন্দ্রের মোট ক্ষমতা ৫২০০ এমভিএ হতে ৬৫৫৭ এমভিএ-তে উন্নীত করা হয়েছে৷ এসকল অবকাঠামোর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫৩,০৩৭টি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে৷ সংযোগকৃত গ্রাহকের মধ্যে ১.৪৬ লৰ শিল্প সংযোগ ও ৩.০১ লৰ সেচ সংযোগ রয়েছে৷ এর ফলে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণে গ্রামীন জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনের ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে-অন্যদিকে তেমনি অধিক ফসল উত্‍পাদনের ফলে দেশের খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে পল্লী বিদ্যুতায়ন কর্মসূচী প্রভূত অবদান রেখে চলেছে৷ ৯১.০৩ লক্ষ আবাসিক সংযোগ প্রদানের ফলে আনুমানিক ৪ কোটি ৫০ লক্ষ ব্যক্তি পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে বিদু্যতের সুবিধা ভোগ করছেন৷ পলস্নী বিদু্যতায়ন কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব বিদ্যুতায়িত এলাকার সকল ক্ষেত্রে সুষ্পষ্টভাবে প্রতিভাত হচ্ছে৷

পল্লী অঞ্চলের জনসাধারণের একাংশ যেমন বিদু্যতের আলোকে উদ্ভাসিত হয়েছেন, অন্য অংশ যারা বিদ্যুতের সুবিধা প্রত্যাশী তারা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সমূহে বিদ্যুৎ প্রাপ্তির সম্ভাবনার বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন৷ তাদের চাহিদার প্রতি আমরা সচেতন৷ এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদু্যতায়ন বোর্ড ও সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে৷ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সকল শ্রেণীর গ্রাহকদের বক্তব্য শ্রবণ করে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব৷ গ্রামীণ জনগণের মুখে হাসি ফুটানোর জন্যই এ কার্যক্রমের সূচনা করা হয়েছিল৷ সে হাসি যেন ম্লান না হয় সেদিকে আমাদের সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে৷ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সততা ও একনিষ্ঠতা বজায় রাখতে হবে৷ গ্রাহকদের সুবিধার্থে টেলিটকের ১৩ হাজার সংগ্রহ পয়েন্ট থেকে এস এম এস এর মাধ্যেমে ৯৭ লক্ষ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল আদায়ের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে৷ এছাড়াও ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল আদায়ের কার্যক্রম অব্যাহত আছে৷ ফলে গ্রাহক কোনরূপ ভোগান্তি ছাড়াই দিবা-রাত্রি ২৪ ঘন্টা তাদের সুবিধামত জায়গা থেকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন৷

আমি অবগত হয়েছি যে, সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১৯৮৪ খৃষ্টাব্দে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ বিতরণ শুরু করেছে৷ এ সমিতিতে ডিসেম্বর/২০১৪ খ্রিঃ পর্যন্ত মোট ৪৯৬৯কিঃমিঃ লাইন নির্মাণ করে মোট ২,০১,৯২৭ জন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে৷ বিগত বত্‍সর সমূহে খুচরা বিক্রয় মূল্যের তুলনায় পাইকারী ক্রয় মূল্যের হার অধিকতর হওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালনায় আর্থিক ঘাটতি দেখা দিয়েছে৷ এ সমস্যা উত্তরণের জন্য বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তরফ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে৷ সিষ্টেম লস কমিয়ে ও বিদু্যতের চুরি রোধ করে পরিচালন ব্যয়ের ঘাটতি মোকাবিলার লক্ষ্যে সমিতির কর্মকর্তা/কর্মচারী/বোর্ড পরিচালক/গ্রাহক সদস্যবৃন্দকেও সম্মিলিত প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে৷

সমিতির সর্বস্তরের গ্রাহক সদস্যদের উন্নত সেবা প্রদান, গ্রাহকদের সমস্যার সমাধান এবং অধিক সংখ্যক গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করার চেতনায় সকলের সমন্বিত দৃপ্ত অঙ্গিকার ঘোষিত হবে-এ কামনা করছি৷ গ্রাহক সদস্যগণকে আহ্বান জানাচ্ছি যেন সমিতির উত্তরোত্তর উন্নয়নে স্ব-স্ব ক্ষেত্র থেকে তাঁরা সকল সময়ে সহযোগিতার হাত প্রসারিত রাখেন৷

আমি সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এর সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি এবং মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি সকল ক্ষেত্রে আমাদের সহায় হন।

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter